নিজস্ব প্রতিবেদক:
গত তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সুনামগঞ্জের ছাতকে সরকারিভাবে নির্মিত বাংলাদেশ রেলওয়ের একমাত্র কংক্রিট স্লিপার নির্মাণ কারখানা।
কারখানাটি বন্ধ থাকায় অলস সময় পার করছেন এখানে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। সঙ্গে এলাকার শতাধিক শ্রমিকও বেকার হয়ে পড়েছেন। অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছরে বারবার বন্ধ হয়েছে এটি।
এর আগে ২০২০ সালে ১১ মাস অদৃশ্য কারণে বন্ধ ছিল। স্লিপার নির্মাণ কারখানা কর্তৃপক্ষ কাঁচামালের দোহাই দিলেও স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, তাদের গাফিলতি ও বেসরকারি দুইটি কোম্পানিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য এ কাণ্ড। দ্রুত কারখানাটি চালুর দাবি জানিয়েছেন স্লিপার নির্মাণ কারখানা শ্রমিকরাসহ ছাতকবাসী।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, কংক্রিট স্লিপার তৈরির অন্যতম উপাদান হচ্ছে সিমেন্ট, পাথর ও বালু। ছাতকে একমাত্র রাষ্ট্রীয় সিমেন্ট কারখানা অবস্থিত। সুনামগঞ্জে উন্নতমানের পাথর-বালুর রয়েছে সুনাম। এছাড়া কংক্রিট স্লিপার তৈরির হাইটেনশন স্টিল রড ও এমসিআই স্টিল পাত ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। ছাতক থেকে ভারত কাছে থাকায় বিষয়টি মাথায় রেখেই তৎকালীন সরকার ভারতীয় প্রযুক্তিতে ১৯৮৮ সালে মিটারগেজ রেল লাইনের কংক্রিট স্লিপার নির্মাণ কারখানাটি প্রতিষ্ঠা করে। এতে দৈনিক ২৬৪টি স্লিপার উৎপাদন করা হয় এবং প্রতি মাসে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার স্লিপার তৈরি হয়। বর্তমানে এখানে বছরে ৫০ হাজার স্লিপার উৎপাদানে সক্ষমতা রয়েছে। আর উৎপাদিত স্লিপার সারা দেশের মিটারগেজ রেললাইনে সরবরাহ করা হয়।
কর্মচারী-শ্রমিক ও সচেতন মহলের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, স্লিপার তৈরির সবধরণের কাঁচামাল প্রাপ্তির সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও রহস্যজনক কারণে বন্ধ রয়েছে কারখানাটি। অভিযোগ রয়েছে, জামালপুরে ও রাজশাহীতে অবস্থিত ব্যক্তি মালিকানার দুইটি স্লিপার নির্মাণ কারখানা গড়ে ওঠার পর থেকে সরকারিভাবে নির্মিত এই কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়। এ কারণে ছাতকের কারখানা থেকে স্লিপার নেওয়া কমে গেছে। ফলে স্লিপার কারখানাটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তাহের মিয়াসহ একাধিক শ্রমিক জানান, আগে তারা এখানে শতশত মানুষ কাজ করেছেন। কিন্তু দুই দিন পরপর কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এখন তারা সবাই বেকার। একদিন কাজ করলে ১০দিন বসে খেতে হয়। কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে কারখানাটি বন্ধ থাকে অধিকাংশ সময়।
স্থানীয় তমাল পোদ্দার বলেন, অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে একমাত্র রাষ্ট্রীয় স্লিপার কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দুটি বেসরকারি কারখানাকে সুযোগ-সুবিধা দিতে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে সরকারি কারখানাটি বন্ধ রাখা হচ্ছে। রেলওয়ের কিছু সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা ব্যক্তিমালিকানাধীন কারখানা দুটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাদের যোগসাজশে এ কাণ্ড হচ্ছে।
ছাতক রেলওয়ের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সবসময় প্রডাকশন দিতে চাই কিন্তু ঠিক মতো কাঁচামাল পাওয়া যাচ্ছে না। পাথর, শ্রমিক, মেশিন পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে। শুধু সিমেন্টটা যদি সময় মতো পাওয়া যেতো তাহলে কোনো সমস্যা হতো না। রেলওয়ের সমস্যা হলে দেশের বেসরকারি আরও দুইটি কারখানা আছে সেখান থেকে আনতে হচ্ছে। আমাদের কর্তৃপক্ষ চেষ্টা করছেন কারখানাটি চালু করার। শুধু মাত্র ছাতক সিমেন্টের কারণে প্রডাকশনে যেতে পারছি না। তারা সিমেন্ট সরবরাহ দিতে পারছে না। একারণে কারখানা চালু করতে দেরি হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত কারখানাটি চালু হয়ে যাবে।
Leave a Reply